অবৈধ ধলতা ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে উত্তাল রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বাজার

রুবেল হোসেন মিয়া, রাজবাড়ী প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
অবৈধ ধলতা ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে উত্তাল রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বাজার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা ও অনিয়মের ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত হাটবারে বহরপুর বাজারে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। একই অভিযোগে পার্শ্ববর্তী কালুখালী উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) বালিয়াকান্দি ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত কৃষক বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে বহরপুর বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু বাজারে এসে তারা অধিকাংশ আড়ত বন্ধ এবং ক্রেতা-ব্যাপারীদের অনুপস্থিত দেখতে পান। এতে কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে পেঁয়াজ বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান, আবার কেউ কেউ বাজার এলাকায় পণ্য ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ থেকে ৪৩ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজকে এক মণ হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি “ধলতা” নামে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ কেটে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার কৃষিপণ্যে অবৈধ কাটতি ও অতিরিক্ত ধলতা নিষিদ্ধ করলেও কিছু অসাধু আড়তদার ও সিন্ডিকেট চক্র তা মানছে না বলে দাবি কৃষকদের।

তাদের আরও অভিযোগ, কৃষকেরা অতিরিক্ত ধলতা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আড়তদাররা আড়ত বন্ধ করে দেন এবং ব্যাপারীদের পেঁয়াজ ক্রয়ে নিরুৎসাহিত করেন। এর ফলে বাজারে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে একই দাবিতে বুধবার সকাল থেকে কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকেরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। কৃষকদের দাবি, অবৈধ ধলতা ও সিন্ডিকেট প্রথা বন্ধ না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল। জেলার বালিয়াকান্দি, কালুখালী ও পাংশা উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজ চাষ হয় এবং এখানকার উৎপাদিত পেঁয়াজ দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদনে সফলতা থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আইন অনুযায়ী ধলতা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং কোনো অবস্থাতেই কৃষকদের হয়রানি করে ধলতা আদায়ের সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসন কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট ও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে কৃষকের স্বার্থ ও ন্যায্যতা সর্বোচ্চভাবে নিশ্চিত থাকে।”

অন্যদিকে, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অবৈধ ধলতা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

জেএইচআর