নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, অটোরিকশার চাকার বাতাস দেওয়ার মেশিন ব্যবহার করে শিশুটির পায়ুপথে জোরে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়।
বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার গজারিয়া বাজারের একটি অটোরিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম রামিম। সে গজারিয়া চড়কারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে রামিম তার দাদা আমজাদ হোসেনের দোকানে আসে। পরে সেখান থেকে পাশের একটি গ্যারেজে যায়, যেখানে ফয়সাল মিয়ার মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের রিকশাচালক সবুজ মিয়া ‘মজা করার উদ্দেশ্যে’ রিকশার চাকার বাতাস দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে শিশুটির পায়ুপথে উচ্চগতির বাতাস প্রবেশ করান।
ঘটনার পরপরই রামিমের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রাকিব আসকারী জানান, উচ্চচাপে বাতাস শরীরে প্রবেশ করায় অন্ত্রে ছিদ্র সৃষ্টি হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। এর ফলে শিশুটি শ্বাসকষ্ট ও তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিল।
এ ঘটনায় পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন বলেন, মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন