রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাউনী গ্রামের কৃতি সন্তান শ্যামলী ঘোষ দীপান্বিতা হ্যান্ডবল খেলায় নিজের মেধা, পরিশ্রম ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছেন সাফল্যের পথে। স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে এসে ইতোমধ্যেই তিনি ক্রীড়াঙ্গনে একজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
শ্যামলী ঘোষ দীপান্বিতা উপজেলার বাউনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা উত্তম কুমার ঘোষ পেশায় একজন জুয়েলারি দোকানদার। দুই বোনের মধ্যে শ্যামলী ছোট। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহ, নিয়মিত অনুশীলন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করে চলেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ হ্যান্ডবল কোচেস ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বড় পরিসরে নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান। সেখানে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করে দীর্ঘমেয়াদি স্পন্সরশিপের দায়িত্ব গ্রহণ করে সান স্পোর্টস (Sun Sports)।
চুক্তি অনুযায়ী শ্যামলী ঘোষ দীপান্বিতার খেলাধুলা, পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন খেলাধুলা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। ক্রীড়াঙ্গনে এমন উদ্যোগকে মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অনুপ্রেরণাদায়ক স্পন্সরশিপ প্রদান করেছেন শ্রীমতী পাপড়ী রানী সরকার। তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শ্যামলী ঘোষ বলেন, তিনি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে এই চুক্তি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়ন কার্যক্রমে মৃন্ময় সরকার জয়কে তাঁর সহকারী (অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে সম্মানিত করেছেন বলেও জানান তিনি।
শ্যামলী ঘোষ দীপান্বিতা বলেন, “আমি এই মর্মে শপথ করছি যে, আমি সর্বদা সৎ পথে থাকবো, খেলাধুলার প্রতি আরও পরিশ্রমী হবো, নিয়মিত অনুশীলন করবো এবং এমন কোনো কাজ করবো না, যাতে আমার স্পন্সরের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন আমার মাধ্যমে পুরো জেলার নাম উজ্জ্বল হয়।”
স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও সচেতন মহল শ্যামলীর এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বাউনী গ্রামের সমাজসেবক শ্রী বিমল কুমার ঘোষ বলেন, “গ্রামের একটি মেয়ে এত দূর এগিয়ে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। শ্যামলী শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে।”
স্থানীয় শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য শ্যামলী একটি অনুপ্রেরণার নাম। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তার মনোযোগ রয়েছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে জাতীয় পর্যায়ে বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এদিকে এলাকার তরুণ ক্রীড়াপ্রেমী শুভ ঘোষ বলেন, “শ্যামলীর এই অর্জন দেখে এলাকার অনেক ছেলে-মেয়েই এখন খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।”
স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মহল মনে করছে, শ্যামলী ঘোষ দীপান্বিতার এই অর্জন শুধু বালিয়াকান্দি নয়, পুরো রাজবাড়ী জেলার তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সঠিক দিকনির্দেশনা, পৃষ্ঠপোষকতা ও কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
আজকের এই অর্জন আবারও প্রমাণ করে, গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সুযোগ, সহযোগিতা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একজন তরুণ খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। শ্যামলী ঘোষ দীপান্বিতার এই এগিয়ে চলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন