লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক গানে দেশজুড়ে প্রশংসিত পাপ্পু ফকির

রুবেল হোসেন মিয়া, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক গানে দেশজুড়ে প্রশংসিত পাপ্পু ফকির

বাংলার লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গানে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন রাজবাড়ী জেলার কৃতী সন্তান ফোক সংগীতশিল্পী পাপ্পু ফকির। জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী বর্তমানে লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে এক পরিচিত ও প্রিয় নাম।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান পাপ্পু ফকির ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সংস্কৃতিমনা। পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতা ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও তিনি সংগীতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। আধ্যাত্মিক চেতনায় বিশ্বাসী এই শিল্পী ছোট থেকেই চিশতিয়া তরিকার অন্তর্ভুক্ত থেকে মানবতা, প্রেম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিজের জীবন ও গানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মনোযোগী। ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। তবে জীবনের পথচলায় একটি বড় শোক হয়ে আসে তার বাবার মৃত্যু। কিছুদিন আগে ক্যান্সারজনিত কারণে বাবাকে হারান এই শিল্পী। সেই শোক বুকে নিয়েও তিনি সংগীতচর্চা থামিয়ে দেননি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অত্যন্ত বিনয়ী, সাদাসিধে ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে বালিয়াকান্দিসহ পুরো রাজবাড়ী জেলায় পাপ্পু ফকিরের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা এবং মাটির মানুষের ভাষায় গান পরিবেশন করাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

ইতোমধ্যে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে গান পরিবেশন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। তার গাওয়া একাধিক গান দেশ-বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের মাঝেও প্রশংসিত হয়েছে। লোকসংগীত, লালনভাবধারা ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি নতুন কিছু মৌলিক গান নিয়েও কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যে কয়েকটি গান ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে এবং আরও কিছু গান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

সংগীতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আধুনিকতার ভিড়ে যখন লোকসংগীত অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন পাপ্পু ফকিরের মতো শিল্পীরা বাংলার ঐতিহ্য ও শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার কণ্ঠে গ্রামবাংলার মাটি, মানুষের সুখ-দুঃখ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন খুঁজে পান শ্রোতারা।

ফোক সংগীতশিল্পী পাপ্পু ফকির বলেন, “লোকসংগীত আমার আত্মার জায়গা। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। যতদিন বেঁচে থাকবো, বাংলার মাটি ও মানুষের গান নিয়েই থাকতে চাই।”

এএন