গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ফরেনসিক প্রতিবেদনে। নিহতদের মধ্যে মা ও দুই শিশুসহ চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আরেক শিশুকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সোমবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই শিশু মিম ও মারিয়ার মৃত্যু হয়েছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে। অপর শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে ভিকটিমদের কোনো চেতনানাশক বা অন্য কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তাদের পাকস্থলীর খাদ্য ও অন্যান্য আলামতের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “এটি অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।”
পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। তবে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো ঘটনার রহস্য পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে কাপাসিয়া সদর উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া নিখোঁজ রয়েছেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন