বিচারিক এখতিয়ার লঙ্ঘন, শাহরাস্তি থানার ওসিকে আদালতে তলব

এমরান হোসেন, চাঁদপুর প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
বিচারিক এখতিয়ার লঙ্ঘন, শাহরাস্তি থানার ওসিকে আদালতে তলব

বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুব আলমকে আদালতে তলব করা হয়েছে। 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বিচারকের কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

গত ৫ মে শাহরাস্তিতে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের আমলি আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও, পুলিশ তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই চার শিক্ষার্থীকে জরিমানা করেন।

এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে আইনি প্রশ্ন তোলেন চাঁদপুরের আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ। স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত রোববার বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।

বিচারকের আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারা অনুযায়ী ইভটিজিং একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১০ ধারার অধীনে এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম বা সাজা প্রদানের একমাত্র এখতিয়ার জুডিশিয়াল বা আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের। এটি কোনোভাবেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়। আদালত উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আমলি ম্যাজিস্ট্রেটে উপস্থাপন না করা আইনগত এখতিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

শাহরাস্তি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, আটক চারজনই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল এবং ভিকটিম সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ঘটনার পরদিন ৫ মে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের হাজির করা হয়। সেখানে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়, যা অভিভাবকরা পরিশোধ করে তাদের ছাড়িয়ে নেন।

শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুব আলম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমি বিচারকের সাথে দেখা করেছি এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে আমাদের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

জেএইচআর