টাঙ্গাইলের বাসাইলে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১৫-২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও খাটরা এলাকায় নদীর ওপর কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। বর্তমানে এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে নির্মিত কাঠের সাঁকোটিই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা, যা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, রোগী এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন স্থানীয়রা।
অটোচালক আজমত আলী জানান, কিছুদিন আগেই সাঁকোর তক্তা ভেঙে তার গাড়িটি নিচে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সেটি উদ্ধার করা হয়। যাতায়াতের সময় সাঁকোটি দুলতে থাকায় পথচারীদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী ও রাজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ব্রিজ নির্মাণের অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না।
কালিহাতী ও বাসাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী বল্লা, রামপুর, কাজিবাড়ী ও গান্ধিনাসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের সদরে যাওয়ার প্রধান পথ এটি। ১২ বছর আগে গ্রামবাসী নিজেদের টাকায় এই সাঁকোটি তৈরি করলেও এখন তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানান, খাটরা ব্রিজটি ‘অনূর্ধ্ব ১০০’ প্রকল্পের শুরুর তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি শুরু হলেই দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী নিজে এই ব্রিজের ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। ওই প্রকল্পে দেরি হলে টাঙ্গাইলের অন্য কোনো প্রকল্প থেকে বরাদ্দ নিয়ে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন