নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুরোদমে চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এই বিশেষ কর্মসূচিটি স্থানীয় পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলার মোট ৪২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে জলঢাকা উপজেলার ২৪৮টি এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয় রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন মোট ৫৪ হাজার ৯১৫ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অপুষ্টি দূরীকরণ এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা হয়েছে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। এর মধ্যে রয়েছে সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, তরল দুধ, বিস্কুট ও পাকা কলা।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা জানান, এই পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আগের চেয়ে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে গড় উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৭৫ শতাংশ, এই কর্মসূচি চালুর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে কেবল শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হচ্ছে না, বরং স্থানীয় হতদরিদ্র নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে জলঢাকা উপজেলায় ১৮৫ জন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৭ জন হতদরিদ্র নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। তারা চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিদিন সকাল সকাল নিজ দায়িত্বে হাস-মুরগির তাজা ডিম সিদ্ধ করে এবং ভালো মানের কলা সংগ্রহ করে সরাসরি বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে ওই নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষায়। পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার কারণে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি পড়ালেখায় তাদের মনোযোগ ও মেধার বিকাশ ঘটছে। ঝরে পড়ার হার রোধে এই কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন