রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সব ধরনের কৃষিপণ্যে ধলতা বন্ধ করা এবং ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন কৃষকেরা।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও জাতীয় কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতি গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার যৌথ নেতৃত্বে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
কৃষকদের ৮টি উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে- কৃষিপণ্যে ধলতা ও তোলাবাজি বন্ধ করা, অবিলম্বে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করে সরাসরি খোদ কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় করা, ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা, বোরো মৌসুমে ধান আমদানি স্থগিত করা, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব কৃষি উপকরণের দাম কমানো, সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা, বিএডিসিকে সচল করা, পল্লী রেশন ও শস্য বীমা চালু করা এবং পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জাতীয় কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতি গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান, সদস্য সচিব রতন কুমার, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন ক্বারী, রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান ও শাজাহান শেখসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় এখানে পেঁয়াজ, পাট ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। এসব পণ্য গোয়ালন্দ বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকেরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে গেলে প্রতি মণে আড়াই কেজি ধলতা (নির্দিষ্ট ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ) এবং এক কেজি তোলা বাবদ অতিরিক্ত পেঁয়াজ দিতে হয়। এ ছাড়া কোনো ফসলের ওজন ৩৯ কেজি ৯০০ গ্রাম হলে ৯০০ গ্রাম বাদ দিয়ে মাত্র ৩৯ কেজি ধরা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ফসলে কৃষকের কাছ থেকে ধলতা অর্থাৎ ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে বাজারে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। এই বিষয়ে আগামীকাল কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আড়তদার, কৃষক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক করা হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপরও যদি কেউ ধলতা নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন