খাগড়াছড়ির গুইমারায় ‘দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬’-এর আওতায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুইমারার তৈইমাতাই ও পিলাক খালের এই পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২৯৮নং আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের "অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)”-এর আওতায় এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্নার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল মালেক মিন্টু এবং গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম মজুমদার, সহ-সভাপতি নারায়ণ ত্রিপুরা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৈইমাতাই ও পিলাক খালের মোট ৯.১ কিলোমিটার এলাকা খনন করা হবে। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪১৬ জন শ্রমিক এবং ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫৭ জন শ্রমিক কাজ করবেন। প্রকল্পে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাবেন।
গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহমেদ জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরায় দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। গুইমারা উপজেলার এই দুটি খালের কাজ শেষ হলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও কৃষিকাজে আমূল পরিবর্তন আনবে।
ইউএনও মিসকাতুল তামান্না বলেন, কৃষি বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে অত্র অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে খালের দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। খনন কাজ শেষ হলে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা সমস্যারও স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এলাকার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন