কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন মা-বাবা। সেই অভিযোগের জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। সাজা খেটে কারাগার থেকে বের হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় সেই মাদকাসক্ত ছেলে নিজের বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরকুম এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত খলিলুর রহমান (৬০) মৌলভীরকুম এলাকার বাসিন্দা। তিনি এলাকায় ছোট একটি দোকানে চা-পান বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এই ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ছেলে মিনারুল ইসলামকে (৩০) ধরে গণধোলাই দিয়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে চকরিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মিনারুল তার বাবা খলিলুর রহমানের পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ধারালো দা দিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মাদকাসক্ত ছেলের নির্মম কোপে খলিলুর রহমানের বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাহুর একটি অংশ শরীর থেকে প্রায় আলাদা হয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিনারুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার অনৈতিক ও উগ্র আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মাস দেড়েক আগে খলিলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মিনারুলকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সপ্তাহখানেক আগে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরে মিনারুল। তাকে জেলে পাঠানোর কারণে বাবার ওপর তার প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলেও বাবার সঙ্গে তার তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়, যা পরবর্তীতে স্থানীয়রা শান্ত করেন। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভ থেকেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মিনারুলের মাদকাসক্তি ও উগ্র কর্মকাণ্ডে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল। মা-বাবার অভিযোগের কারণে সাজা খাটায় মিনারুলের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সেই প্রতিশোধ নিতেই সে তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘাতক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন