কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর ওপর প্রস্তাবিত বাংটুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুর ঘাট এলাকায় গিয়ে তারা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান ও কারিগরি বিষয় পরিদর্শন করেন।
চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী জাইয়া সাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিজনেস ম্যানেজার ইউ জিগিং, মার্কেটিং ম্যানেজার ওয়াং জিংওয়েই, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার পেংটাও এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শানতোনো।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুর ঘাট এলাকায় ধরলা নদীর ওপর প্রায় ১ হাজার ৭৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছে এলজিইডি। দীর্ঘদিন ধরে ধরলা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সুপারিশে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডি.ও. পত্রের মাধ্যমে “পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের সমীক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়)” এর আওতায় কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলাধীন হোলোখানা ইউনিয়নের শিবরাম হতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ পর্যন্ত সড়কের ১ হাজার ৭৫০ মিটার চেইনেজে (বাংটুর ঘাট এলাকায়) ধরলা নদীর ওপর আনুমানিক ৯০০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে তিন উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী বলেন, “ঈদের পর একটি স্টাডি টিম এসে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা ও বিস্তারিত সুবিধা নিয়ে কাজ করবে। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন