কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারেরা

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারেরা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও কুড়াল তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপে লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। আবার অনেকে পুরোনো দা-ছুরি ও চাপাতিতে ধার দিতে ভিড় করছেন কামারদের দোকানে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের চাপ।

নাগরপুর সদর বাজারের কামার মো. আক্তার বলেন, “ঈদের আগে আমাদের কাজ অনেক বেড়ে যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দা-ছুরি তৈরি ও ধার দেওয়ার কাজ করতে হয়। এই সময়টাতেই বছরের সবচেয়ে বেশি আয় হয়।”

অপর কামার বিপ্লব জানান, “মানুষ এখন আগেভাগেই কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই প্রতিদিনই অনেক অর্ডার আসছে। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।”

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে একটি মাঝারি আকারের ছুরি তৈরি করতে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, দা ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চাপাতি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো সরঞ্জামে ধার দিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ক্রেতাদের অনেকে জানান, ঈদের দিন যেন কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে নিচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেলেও কোরবানির ঈদ এলেই আবারও প্রাণ ফিরে পায় এই পেশা। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএন