ঢাকা থেকে মাগুরার উদ্দেশে রওনা হওয়া ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেলবাহী একটি ট্রাক নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রাকের ভেতর থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পুলিশের তদন্তে সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ভোজ্যতেল ছিনতাই ও ট্রাকচালক হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ ভোজ্যতেল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান “মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স”-এর মালিক গোপাল সাহা ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল অর্ডার দেন। গত ১৮ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোর ট-১১-১৩৪৬ নম্বরের একটি ট্রাকে তেল নিয়ে মাগুরার উদ্দেশে রওনা দেন চালক আব্দুর রহমান (৫৮)।
নির্ধারিত সময়ে ট্রাকটি গন্তব্যে না পৌঁছালে ব্যবসায়ী গোপাল সাহা চালকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও ট্রাক ও চালকের কোনো সন্ধান পাননি।
২০ মে বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খেদপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি দেখতে পান স্থানীয়রা। ট্রাক থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ট্রাকের ভেতর থেকে চালক আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও পরে তদন্তে ছিনতাই ও হত্যার বিষয়টি সামনে আসে। ২৩ মে ব্যবসায়ী গোপাল সাহা মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর পুলিশ সুপার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনের কললিস্ট, অবস্থান বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জেলার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে ফরিদপুরের মধুখালী ও মাগুরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এরপর গত শনিবার রাতে প্রথমে আজাদ হোসেন ওরফে হিটলার (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- বিকাশ সাহা (৩০), আব্দুল কুদ্দুস (৫০) এবং হারুন অর রশিদ (৪৮)। অভিযানে তাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪৫ দশমিক ৫ ব্যারেল ভোজ্যতেল, সাতটি খালি ব্যারেল এবং ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত ছিনতাই। ট্রাকটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে গতিরোধ করা হয় এবং চালককে হত্যা করা হয়। পরে ভোজ্যতেল বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে চালককে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কে এবং চক্রটি আগে থেকে সক্রিয় ছিল কি না-সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাতের বেলায় পণ্যবাহী ট্রাক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে আসে। কিন্তু মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় চালক ও ব্যবসায়ীরা প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন