রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়ার লঞ্চ ও ফেরিঘাট, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। ভাঙনে ইতিমধ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বেশ কয়েকটি বসতভিটা ও কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট হতে ছোটভাকলা ইউনিয়নের অন্তরমোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অন্তত প্রায় ৮০০ মিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও ভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
সূত্র মতে, নদীর পানি ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। যে কারণে তারা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে আপাতকালীন জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেইসাথে তারা বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে অবহিত করবেন।
গত সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন স্পিডবোটযোগে গোয়ালন্দের ভাঙন কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিন আলাপকালে দৌলতদিয়া বেপারীপাড়া ও দেবগ্রাম মুন্সিবাজার এলাকার ছামাদ সরদার, বাবু সরদার, খবির সরদার, দবির শেখ, বালাম মুন্সি, আজিজ মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন জানান, পদ্মায় হালকা জোয়ারের কারণে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্রোত ও ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাতেই নদীপাড়ে থাকা তাদের অনেক ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। পুরো বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ভাঙনের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা এখনই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা চান।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকাতেও ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় এখনই ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। পানি বাড়লে ভাঙন আরও তীব্র হবে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, আমরা দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট এবং দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত অন্যান্য এলাকা পরিদর্শন করে ঝুঁকির বিষয়টি দেখেছি।
একই সাথে ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএ এবং অন্যান্য এলাকায় জরুরি কাজ শুরুর জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে যতটুকু পারা যায় কাজ করা হবে। এছাড়া বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন