কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ায় প্রবাসী বোনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই আহত হোসনে আরা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন-ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সিদ্দিক (৫৮), কাচারীপাড়া গ্রামের কুদ্দুছ (২৮), কুদ্দুছের স্ত্রী নুরুনাহার (২৫) ও বোরহান (২৪)।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে বাদীর ছোট ভাই কুদ্দুছ অসুস্থ বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো জমি ও টাকার জন্য তাদের নির্যাতন করতেন। ভাইয়ের নির্যাতন থেকে বাবা-মাকে রক্ষা করতে হোসনে আরা বিভিন্ন সময় তাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন।
পরে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং বাবা-মায়ের দেখাশোনার জন্য সৌদি আরবে গিয়ে উপার্জন শুরু করেন। বিদেশে থেকে তিনি পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ভাইকেও আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই সকাল ১১টার দিকে হোসনে আরার সামনে তার মা’কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন কুদ্দুছ। এ সময় হোসনে আরা এর প্রতিবাদ করে আগে দেওয়া দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৎ ভাই সিদ্দিকের নির্দেশে কুদ্দুছ তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এতে তার বাম হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইদ্রিস মিয়া জানান, পরিবারের দায়িত্ব নিতে বিদেশ যাওয়া হোসনে আরা বাবা-মায়ের ভরণপোষণের পাশাপাশি ভাইকে অটোরিকশা ও টমটম কিনে দিয়েও সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করে কুদ্দুছ বারবার মায়ের কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না পেলে নির্যাতন করতেন।
অভিযুক্ত কুদ্দুছের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং মোবাইল ফোনেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন