বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধার, খাল-নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নদীভাঙন রোধ, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, জলাশয় দখলমুক্তকরণ এবং উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
ফিশারফোক ইন্টিগ্রেশন ফর সাসটেইনেবল হ্যাবিট্যাট অ্যান্ড ন্যাচারাল ইকোসিস্টেম ট্রান্সফরমেশন (ফিশনেট) প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধার ও পানির সংযোগ পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে পানি কমিটি ও মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা পানি কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত ইকবাল ও মো. ওমর ফারুক।
সভায় বক্তব্য দেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ, পাথরঘাটা পানি কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন এসমে, দৈনিক ইনকিলাবের বরগুনা জেলা সংবাদদাতা জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, ফিশনেট প্রকল্পের কারিগরি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আরাফাত রহমান, চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি মো. রাসেল মাহমুদসহ পানি কমিটির সদস্য, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় বক্তারা বলেন, বরগুনার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়গুলো ক্রমেই ভরাট, দখল ও নাব্যতা সংকটে পড়ছে। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও কৃষি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক জলাধারের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। সামান্য জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ করে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানান তারা।
সভায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, অবৈধ দখল ও স্থাপনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করে জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে।
উপকূলীয় জেলেদের সমস্যা নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, নাব্যতা সংকট, নিরাপদ নৌযানের অভাব এবং জীবিকার অনিশ্চয়তার কারণে উপকূলের জেলেরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, উপকূলীয় এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের মতামত ও বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চিত্তরঞ্জন শীল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।
আয়োজকরা জানান, ফিশনেট প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধার, পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ধরনের সভার মাধ্যমে সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনগণ ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন