রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেছেন, প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। সরকারের বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীদের প্রাপ্তির মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে নতুন বাইসাইকেল, ১২০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি, ১২ জন প্রান্তিক নারীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন এবং ৪টি গৃহহীন পরিবারকে উন্নত বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। পবা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ থেকে এই সহায়তায় মোট ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক। প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তাদের সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন এবং গৃহহীন পরিবারকে বসতঘর দেওয়া হচ্ছে। পবা-মোহনপুরসহ দেশের সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পবা উপজেলার খৃষ্টানপাড়া এলাকার স্কুলশিক্ষার্থী রত্না বিশ্বাস। রত্নার বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হতো তাকে।
রত্না নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, “বাবার পক্ষে আমাকে সাইকেল কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। হেঁটে স্কুলে যেতে অনেক সময় লাগত এবং কষ্ট হতো। এখন সাইকেল পেয়ে আমি খুব খুশি। মাত্র ১০ মিনিটেই স্কুলে যেতে পারব।” এখন থেকে সে নিয়মিত ও সময়মতো স্কুলে গিয়ে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারবে বলে জানায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। এসব উপকরণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে এবং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সহায়তাপ্রাপ্তদের এসব উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাজ কুমার শাও, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন