চট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টি, বন্যা এবং পাহাড় ও দেয়ালধসে এখন পর্যন্ত ৬ শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বন্যা ও পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৭ জন। গত ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার ৭টি উপজেলায় তাঁরা মারা যান। এ ছাড়া শনিবার পর্যন্ত মোট ৯০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাঁর মধ্যে ৭৫ জনই সাপে কাটা রোগী। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলায় ২৪টি এবং বাঁশখালীতে ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠলেও এখন তা নেমে গেছে। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সাপে কাটা ৭৫ জন রোগীর মধ্যে কেউ মারা যাননি। বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিয়ে কাজ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, রাউজান, আনোয়ারা, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন শিশু, ৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, আহত ৯০ জনের মধ্যে পাহাড়ধসে ২ জন, দেয়াল ধসে ২ জন, সাপের কামড়ে ৭৫ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১ জন আহত হয়েছেন। সাপে কাটা ৭৫ জন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পটিয়ায় ২২ জন এবং বোয়ালখালীতে ২০ জন চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া রাউজানে ১৪ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, চন্দনাইশে 3 জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন