বরিশালে ঢালাইয়ের পরই ধসে পরলো নির্মাধীন ব্রীজের পাটাতন

বরিশাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
বরিশালে ঢালাইয়ের পরই ধসে পরলো নির্মাধীন ব্রীজের পাটাতন

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর ঢালাই ধসে পড়ায় কাজের গুণগত মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে নির্মাণাধীন সেতুতে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। যদিও বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে প্রকাশ্যে আসে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের দরপত্র পায় ডায়নামিক আইটি শপ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে আবুল ফয়েজ শরীফ নামের এক ঠিকাদার নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতু নির্মাণে পুরোনো ও অনুপযুক্ত বাঁশ দিয়ে পানির মধ্যে সাটারিং (পাটাতন) তৈরি করা হয়। বুধবার দুপুরে ওই সাটারিংয়ের ওপর ঢালাই দেওয়ার সময় ঢালাইয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে সাটারিংসহ পুরো ঢালাই খালের মধ্যে ধসে পড়ে।

ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেন, নিচের কাঠামো (স্ট্রাকচার) যথেষ্ট মজবুত না থাকায় ঢালাই শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সাটারিং ভেঙে পড়েছে। পুনরায় সাটারিং করে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয়ের বরাদ্দে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন না করেই ঠিকাদারদের বিল পাস করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের কাউকে না জানিয়েই ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন। পরে শুনেছি সেটি খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, কাজের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম জি