বন্যার ফসল ভেসে যাওয়ায় কৃষক জসিমের মাথায় হাত

রুশমী আক্তার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
বন্যার ফসল ভেসে যাওয়ায় কৃষক জসিমের মাথায় হাত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাই সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার ফসলি জমি, আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ। টানা অতিবৃষ্টির কারণে আমনের বীজতলা, পানের বরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। এতে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেছে। তাদেরই একজন পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম।

তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা চাষ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন জসিম। পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর আশায় বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, তিতকরলা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, কলা, চালকুমড়া, আউশ ধান এবং আমনের বীজতলার চাষ করেছিলেন।

কিন্তু সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার চাষ করা পুরো জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একদিকে সংসার চালানো, অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার প্রায় ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, ৫ হেক্টর পানের বরজ এবং ৩৬০ হেক্টর আউশ ও আমনের বীজতলা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম বলেন, পরিবারের ভালো দিনের আশায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ ও আউশ-আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি। কীভাবে সামলাব বুঝতে পারছি না। সরকার পাশে না দাঁড়ালে আমাদের বাঁচার কোনো পথ থাকবে না।

স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া বলেন, উপজেলার অন্যতম সফল সবজি চাষি জসিম। তার কৃষি কার্ড থাকলেও ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পাননি। এবার বন্যায় তার সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের উচিত তাকে দ্রুত সহযোগিতা করা।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, এবারের বন্যায় জসিম যে পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগবে। তিনি একদিকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত, অন্যদিকে ফসল হারিয়ে নিঃস্ব। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থার কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি সহায়তা বরাদ্দ এলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশ স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

এম জি