কৈয়গ্রাম ব্রিজে বাড়ছে দর্শনার্থী, চাঙ্গা নেহারি-পরোটার দোকান

ওসমান হোসাইন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)  প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
কৈয়গ্রাম ব্রিজে বাড়ছে দর্শনার্থী, চাঙ্গা নেহারি-পরোটার দোকান
দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কৈয়গ্রাম ব্রিজ; পাশের দোকানে চলছে গরুর নলার নেহারি-পরোটা বিক্রি।

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশের কারণে দিন দিন দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৈয়গ্রাম ব্রিজ। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিন ও সপ্তাহান্তে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সেতুজুড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের উজিরপুর সড়কে অবস্থিত। প্রায় ৩৯০ মিটার দীর্ঘ আধুনিক গার্ডার সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। এটি কর্ণফুলী ও পটিয়া উপজেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বর্তমানে সেতুটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং একটি জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। বিকেল ও ছুটির দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন। সেতুতে স্থাপিত দৃষ্টিনন্দন সড়কবাতি রাতের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

পর্যটকদের আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে সেতুসংলগ্ন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বেদির দোকান’। গরুর নলার নেহারি, গরম পরোটা ও চায়ের জন্য দোকানটি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে।

দোকানের মালিক নুর নাহার (৫০) স্বামী মোহাম্মদ মনছুর আলম (৬০)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। সেই শোক বুকে নিয়েই আমরা দোকান চালিয়ে যাচ্ছি।”

দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও এখানকার গরুর নলার নেহারি-পরোটার প্রশংসা করেন। দর্শনার্থী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসি। প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বসে সুস্বাদু নেহারি-পরোটা খেতে খুবই ভালো লাগে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রিও বেড়েছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

দর্শনার্থী মোস্তফা রেজা সুমন বলেন, ব্রিজের মনোরম পরিবেশ, চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সুস্বাদু নেহারি-পরোটার সমন্বয় বারবার এখানে টেনে আনে। তবে পর্যটকদের সুবিধার্থে আরও বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটনবান্ধব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কৈয়গ্রাম ব্রিজ ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

এম জি