রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ, পিএসসি-এর নির্দেশনায় এবং রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকতের তত্ত্বাবধানে রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পে হেডম্যান ও কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত।
সম্মেলনটি নিয়মিত মাসিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। সাব-জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হন।
সভাপতির বক্তব্যে মেজর হাফিজ বলেন, রণজয়ী-৩৮ দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন। সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। আমরা জানি, এলাকার মানুষ যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা অপূরণীয়। আমরা সামান্য সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তবে দুর্যোগের সময় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, নইলে নিজেরাই বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে অবদান রেখে চলেছে। আমরা চাই, এলাকায় কেউ সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করলে তাদের প্রতিহত করা হবে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কখনো উন্নয়ন চায় না। যে এলাকায় শান্তি থাকবে, সে এলাকাই উন্নয়ন হবে। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি যে-ই করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এ এলাকায় হতে দেওয়া যাবে না।
মাদকের বিষয়ে সাব-জোন অধিনায়ক মেজর হাফিজ বলেন, আমি শুনেছি এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি হচ্ছে। মাদক নির্মূল করতে হবে। আপনারা আমাদের সঠিক তথ্য দিন। আমরা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে মাদকবিরোধী যুবসমাজকে নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। দুর্গম এলাকার মানুষ, যারা এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া পাননি, তাদের একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।” এ সময় এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী সাব-জোনের জেসিও মিজানুর রহমান, ১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, ২ নম্বর গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমাসহ বিভিন্ন মৌজা থেকে আগত ৯ জন মেম্বার, ৮ জন হেডম্যান, ১০২ জন কারবারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন