আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে রিজার্ভ চুরি ও ব্যাংক খাতে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবারও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে সাবেক তিন গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আখতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কমিশনের হাতে কিছু নথি পৌঁছেছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল কাজ করছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা অনুমোদনের কাগজপত্র, সংশ্লিষ্ট নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় বিশেষ একটি গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহার প্রস্তুত করা অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কপিও কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।
দুদক জানায়, গত ৫ আগস্ট অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর একক গ্রাহকের ঋণসীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণ, এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা দেওয়া এবং বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার নামে বেআইনি ঋণ সুবিধা দেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের ধারাবাহিকতায় এবার ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত, ঋণসংক্রান্ত নথি এবং রিজার্ভ চুরির সংশ্লিষ্ট সব তথ্য চেয়েছে দুদক।
এর আগে রিজার্ভ চুরির সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকনিক্যাল দায়িত্বে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিকের সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও তলব করেছিল সংস্থাটি।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন