যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক হল মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১১ জন শিক্ষার্থী আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ২০ থেকে ৩০ মিনিট লিফটের ভেতর রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় লিফটটি ব্যবহারের সময় মাঝপথে হঠাৎ বিকল হয়ে যায়।
ভেতরে থাকা ১১ জন শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় বদ্ধ পরিবেশে আটকা পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত গরম ও শ্বাসকষ্টের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। পরে লিফট অপারেটরকে খবর দেওয়া হলে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, দ্রুত জানানোর পরও উদ্ধার করতে ২০ মিনিট সময় লেগেছে। ভেতরে যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। হলের লিফটে প্রায়ই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। আমরা শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।
এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট আব্দুর রউফ সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লিফটসংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে আপাতত তিন তলা পর্যন্ত লিফট ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিফট অপারেটরদের সার্বক্ষণিক হলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গেও কথা বলেছি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার শাফাওয়াত হোসেন লিফট বিভ্রাটকে একটি ‘সাধারণ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের সাময়িক জটিলতা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।
ইঞ্জিনিয়ারের এমন দায়সারা বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত লিফট সংস্কার করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন