৩৮ বছরের কর্মজীবনের ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে বাকৃবি অধ্যাপককে রাজকীয় বিদায়

বাকৃবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
৩৮ বছরের কর্মজীবনের ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে বাকৃবি অধ্যাপককে রাজকীয় বিদায়

দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজকীয় সম্মানে তাঁকে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে এটি কৃষি অনুষদের অধীনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হতো। এ ছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেষ কর্মদিবসে আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের এমন অভাবনীয় ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অধ্যাপক বাতেন বলেন, গতকাল বিকেলে কৃষি অনুষদ প্রাঙ্গণে বিদায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে যে এতটা ভালোবাসে, তা আমি চিন্তাও করতে পারিনি। আনন্দে আমি শুধু কাঁদতেই পারিনি। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে আমাকে বিদায় জানায়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে আমাকে বিদায় দিতে চেয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে চলমান অন্যান্য ক্লাসের যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণে আমি তাদের শব্দ করতে নিষেধ করি। পরে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাসভবনে পৌঁছে দেয়। এ সময় আমার স্ত্রী, যিনি নিজেও বাকৃবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বাসার বারান্দা থেকে পুরো দৃশ্যটি উপভোগ করেছেন। এর আগে দুপুর ২টায় নিজ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিচালক অধ্যাপক ড. রেহানা খাতুনের কাছে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করি। এ সময় সহকর্মীরাও অশ্রুসিক্ত নয়নে আমাকে বিদায় জানিয়েছেন।

অধ্যাপক বাতেনের শিক্ষার্থী ও বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল বাতেন স্যারকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে বিদায় জানিয়েছি। তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেননি, আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দিয়েছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। এই আয়োজন ছিল তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতার প্রতীক। স্যারের শিক্ষা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। আমরা স্যারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করি।

জেএইচআর