চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
এবারের পরীক্ষায় সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী। মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ৯টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র পরিচালনা, কক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল নজরদারিসহ একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। প্রতিটি কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন এবং কোনো কক্ষে দুজনের কম পরিদর্শক থাকতে পারবেন না। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই আসনে বসতে হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সময় ও নম্বর বিভাজন: ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। তবে ব্যবহারিক বিষয়সংবলিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সিকিউ পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় পাওয়া যাবে।
পরীক্ষার প্রক্রিয়া: প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। সকালের শিফটের পরীক্ষা ১০টা থেকে ১টা এবং বিকালের শিফটের পরীক্ষা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে।
ওএমআর শিট পূরণ: পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড লিখে ওএমআর ফরমে সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের ভেতরে লেখা বা উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
পাস মার্ক ও বিষয়: পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রবেশপত্রে উল্লেখ থাকা বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না।
ঘড়ি ও ক্যালকুলেটর: পরীক্ষার কক্ষে সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল হাতঘড়ি এবং শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনো ধরনের প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনা সম্পূর্ণ নিষেধ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন