কুবির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান

কুমিল্লা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
কুবির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের মোট ১১৭ জন মেধাবী ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাবৃত্তি ও মেধাবী স্টাইপেন্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের হলরুমে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “মেধাবৃত্তির আর্থিক মূল্য অপেক্ষা এর স্বীকৃতি ও প্রেরণার মূল্য অনেক বেশি, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করে।” তিনি গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ ও অর্থায়ন সম্প্রসারিত হয়েছে এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা অনুদানের সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক দক্ষতা অর্জন, গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে তোলা, ক্লাব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া এবং পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আগ্রহী। আমরা যদি তাঁকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানাতে পারি এবং আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও সাফল্যগুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারি, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের বিষয় হবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে।”

মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে একটি অংশ আজ আপনাদের একাডেমিক এক্সেলেন্সির মাধ্যমে এই সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেছে। রাষ্ট্র ও জনগণের সহযোগিতায় অর্জিত উচ্চশিক্ষার সুযোগকে দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই।” তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, অভিযোজনক্ষমতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের অর্জিত বৃত্তির অর্থের একটি অংশ বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিয়ে তাঁদের দোয়া নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মেধাবী হলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণ হয় না; একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিকতা, শিষ্টাচার, সুন্দর আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় থাকতে হবে। এসব গুণাবলি ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার বলেন, “মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরাদের মধ্যে সেরা এবং তাঁদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে।” তিনি বর্তমান সময়ে ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থেকে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো সিজিপিএ নয়; এআই লিটারেসি, ডিজিটাল দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত কাউন্সেলিং, অনুপ্রেরণা ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মেধাবৃত্তি ও স্টাইপেন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন ছয়টি অনুষদে মেধাবী, অস্বচ্ছল মেধাবী এবং ক্রীড়া ক্যাটাগরিতে মোট ৪০২ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে অনুষদগুলো আলাদাভাবে সমন্বয় করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে চেক বিতরণ করে।

এএন