যে ৫ টুথপেস্টে পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
যে ৫ টুথপেস্টে পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর এক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ১২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত এই গবেষণার নমুনাগুলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। এতে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এরপর ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে পাওয়া গেছে ১৬০টি করে কণা। শিশুদের জন্য তৈরি কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

ইএসডিও জানায়, ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা মোট নমুনার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

গবেষণার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর একটি জরিপও চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, টুথপেস্টে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা আগে কখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে শুনেননি। আর ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ এ বিষয়ে শুনলেও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন।

ভোক্তা জরিপে আরও উঠে এসেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের তালিকায় রয়েছে মেডিপ্লাস। ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন। এরপর ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম জানান, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান ও কণার আকারের সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে টুথপেস্টের মান সংশোধনের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

ইএসডিও আরও জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্ধারিত জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষাপদ্ধতি বা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এএন