আহত শতাধিক

নেপালে ‘জেন জি আন্দোলন’: পুলিশের গুলিতে নিহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫, ০৬:৫৮ পিএম
নেপালে ‘জেন জি আন্দোলন’: পুলিশের গুলিতে নিহত ১৬

কাঠমান্ডু, নেপাল – নেপালে ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া শত শত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকার ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশটির অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন জেলায় কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণ বলেছেন, “ভেতর থেকে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনতার আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। তবে আজ আমরা ইতিমধ্যে জয়ী হয়েছি।”

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তাবাহিনী ব্যবহার করেছে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান। এতে বহু বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে রাজধানীর বানেশ্বরে ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছে। জেন জি প্রজন্মের এই বিক্ষোভে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

নেপালের ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে জানিয়েছেন, হাসপাতালে সাতজন মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের মাথা ও বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। এছাড়া ২০ জনেরও বেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বানেশ্বরের এভারেস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন। সেখানে বর্তমানে ৫০ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

কাঠমান্ডুর সিভিল হাসপাতালে আহত দুই বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। এছাড়া কেএমসি হাসপাতাল এবং ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে একজন করে বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, এএফপি

ইএইচ