ইরানি হামলায় মার্কিন সৈন্যদের মৃত্যু, ট্রাম্প বললেন ‘দুঃখজনক ঘটনা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ইরানি হামলায় মার্কিন সৈন্যদের মৃত্যু, ট্রাম্প বললেন ‘দুঃখজনক ঘটনা’
হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি সামরিক সংঘাতকে ঘিরে। জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইরানের অভ্যন্তরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে সেনা নিহতের ঘটনাকে ‘একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক নিউনেশনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (MoU) থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই।

ইরানের ওই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আই কুডন্ট কেয়ার লেস’অর্থাৎ এ বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ বা উদ্বেগ নেই। তিনি আবারও জানান, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেটিই এই সংঘাতের প্রধান লক্ষ্য।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়।

জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় দুই সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। এরপরই ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ওয়াশিংটন।

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, ইরান যদি বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তাহলে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, সমঝোতা স্মারক (MoU) থেকে ইরানের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে তারা নিজেদের অবস্থানে অটল থাকবে।

এম জি