জুলাই অভ্যুত্থানের বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির (ওসমান হাদি) নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
জেনেভা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার তুর্ক এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে ফলকার তুর্ক বলেন, গণ-আন্দোলনের অগ্রভাগের একজন নেতার এভাবে মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। একইসাথে তিনি দেশের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
তুর্ক উল্লেখ করেন যে, প্রতিশোধের রাজনীতি কেবল সামাজিক বিভেদকে আরও গভীর করবে, যা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর তাগিদ দিয়ে বলেন, হাদির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই শাহাদাত বরণের পর আন্তর্জাতিক মহলের এই প্রতিক্রিয়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন