ওমরাহ যাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম রোধে বড় ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সারা বিশ্বে ওমরাহ খাতে নিয়োজিত প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে ১ হাজার ৮০০টির চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং সেবার মানে বড় ধরনের ঘাটতি পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওমরাহ পালনে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জন্য উন্নত মানের সেবা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, অনেক এজেন্সি হজযাত্রীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবাসন, পরিবহন বা অন্যান্য সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমোদিত মানদণ্ড ও আইনি প্রবিধান মেনে না চলা এবং ওমরাহ প্যাকেজ পরিচালনা ও নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এ স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র নতুন ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। যাদের কাছে ইতোমধ্যে বৈধ ওমরাহ ভিসা রয়েছে, তাদের ভ্রমণে কোনো সমস্যা হবে না। যাদের আগে থেকেই বুকিং করা আছে, তাদের ওমরাহ কার্যক্রম ও সেবা আগের মতোই সচল থাকবে। স্থগিতাদেশের কারণে চলমান ওমরাহ যাত্রীদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোকে তাদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যদি তারা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারে এবং অব্যবস্থাপনা দূর করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের লাইসেন্স বা চুক্তি পুনরায় সচল করে দেওয়া হবে। তবে যারা এ সময়ের মধ্যে সফল হবে না, তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সৌদি সরকার ২০২৬ সালের ওমরাহ মৌসুম নিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছে। ওমরাহ ভিসার মেয়াদ ৩ মাস থেকে কমিয়ে ১ মাস বা ৩০ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ ভিসা ইস্যু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। তবে প্রবেশের পর দেশটিতে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে।
ওমরাহ পারমিট এবং রওজা শরিফ জিয়ারতের জন্য নুসুক অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভিসার আবেদনের সময় অবশ্যই লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেল এবং পরিবহন বুকিংয়ের কনফার্মেশন নম্বর বা বিআরএন থাকতে হবে।
সৌদি আরবের এ পদক্ষেপ ওমরাহ খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে এবং সাধারণ হজযাত্রীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘাসসান আলনওয়াইমি জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের অধিকার রক্ষায় নজরদারি এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন