জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে ইরানের নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। এই পদে ইরানের আসীন হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ‘চুক্তির চেতনার পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালন করছে না এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতাও করছে না। ফলে এমন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন এনপিটি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানকে সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। ইরানের বক্তব্য, পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান দুর্বল। কারণ ইতিহাসে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
উভয় দেশের এই বাকযুদ্ধের পেছনে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাও বড় ভূমিকা রাখছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে ওঠে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
দীর্ঘ সংঘাতের পর সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়নি। শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো সফল হয়নি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের এই নতুন ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, ওয়াশিংটন পোস্ট, আরব নিউজ, মিডল ইস্ট আই
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন