যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।
ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করতে দেওয়া যাবে না। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখবে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন পারমাণবিক সক্ষমতা দেশের সার্বভৌম অধিকারের অংশ এবং এতে কোনো ধরনের আপস সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা মার্কিন চাপ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর বা পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি তারা মানবে না।
অন্যদিকে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের অবসান চায় এবং এমন একটি নিশ্চয়তা চায় যাতে ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাদের অবস্থানও কঠোর, এই কৌশলগত জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে তারা জানিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বাণিজ্যিক চলাচলে সহায়তার বিষয়ে ইরান ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।
পারমাণবিক জ্বালানি প্রযুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। সাধারণ ইউরেনিয়াম গ্যাসকে সেন্ট্রিফিউজে প্রক্রিয়াজাত করে ইউ-২৩৫ আইসোটপের পরিমাণ বাড়ানো হয়, যা মূলত জ্বালানি ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণভাবে ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। ২০ শতাংশ বা তার বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গবেষণা চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়। আর প্রায় ৯০ শতাংশ বা তার বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্র-গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের এই অবস্থান পারমাণবিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন