‘যুদ্ধ শেষ, ইরানে আর হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
‘যুদ্ধ শেষ, ইরানে আর হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র’

ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা মার্কিন সামরিক বিমান হামলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেওয়া কয়েক মাসের তীব্র সংঘাতের পর অবশেষে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে সফল হয়েছে।

বুধবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন এখন আর ইরানের সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশটির ভেতরে নিয়মিত বা ধারাবাহিক কোনো আক্রমণ চালাচ্ছে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইনপ্রণেতাদের সামনে দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা ও শিল্প খাতের একটি বড় অংশ সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ড্রোনের বিশাল মজুতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা গেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও মার্কিন-ইরান চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই রুবিওর এই বক্তব্য এলো।

অবশ্য এই যুদ্ধবিরতির মাঝেই অতি সম্প্রতি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বড় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় একটি যাত্রীবাহী টার্মিনাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এই হামলার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়।

চলতি বছরে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চতুর্থ মাসে পা দিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইরান এখনো বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-তে তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এর জবাবে মার্কিন প্রশাসনও ইরানের প্রধান প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই বাণিজ্যিক নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এটিকে তিনি ‘চূড়ান্ত ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে রুবিও আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি সচল রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো কোনো দুর্বল চুক্তি আবার হতে পারে কিনা— এমন আশঙ্কার জবাবে রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে।

সাবেক চুক্তি জেসিপিওএ-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি কোনো নতুন চুক্তি হয়, তবে তা অবশ্যই অত্যন্ত শক্তিশালী হবে, অন্যথায় কোনো চুক্তিই করা হবে না। কোনো অবস্থাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বাতিল করা চুক্তির মতো দুর্বল সমঝোতায় ফিরবে না ওয়াশিংটন।

এএন