মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার ভারতের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং এই অভিযোগ এনেছেন।

মামলাকারীর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমানসে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের একটি খুনের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এই ধরনের মন্তব্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে এবং দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মমতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ এবং ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। নতুন এই আইনি বিধানের ১৫২ ধারাটি মূলত দেশের সার্বভৌমত্ব, একতা ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে আঘাত হানার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।

আইনের ১৫৩ ধারা অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা বা উসকানি দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া ১৫৩ (এ) ধারায় ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বৈরিতা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এমন সংবেদনশীল মন্তব্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিরেপক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী ৮ জুন আদালত খোলার পরপরই তিনি মমতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে হারের প্রায় এক মাস পর গত মঙ্গলবার নিজের প্রথম রাজনৈতিক সভা থেকেই এই বিতর্কিত বক্তব্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির খুনিদের রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখা (এসটিএফ) আটক করার পর স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন।

জনসভায় মমতা বলেন, মেঘালয় সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ থেকে এক শীর্ষ খুনি পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল, যাকে রাজ্য পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে গ্রেপ্তার করে। তবে এরপরই দিল্লির পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে এবং জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে ঘটনাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বারণ করা হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসলে কারা জড়িত ছিল এবং কার কার নাম সেখানে উঠে এসেছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমতা থেকে সরে গেলেও সব তথ্য তাঁর জানা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে এবং বাংলাদেশে নতুন করে উত্তাল পরিস্থিতি এড়াতে তিনি এখনই সেই সুনির্দিষ্ট নামগুলো প্রকাশ করছেন না।

এএন