ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৫২০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও শত শত মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলভারো জানান, নিহতদের অধিকাংশই হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান অথবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলের কাছাকাছি ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ১৯০০ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামো এই ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চললেও বারবার আফটারশক হওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ২৫০টির বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্তত আটটি হাসপাতাল, ভেনেজুয়েলা রেড ক্রসের সদর দপ্তর এবং ফরাসি দূতাবাস।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার দুর্যোগের শিকার হয়েছে। রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরও এই রাজ্যে অবস্থিত। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় এলাকাটিকে ‘বিপর্যয় অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার পানি, খাবার ও ওষুধ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বেচ্ছায় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা এখনও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছেনি।
ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এদিকে বিরোধী পক্ষের তৈরি একটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের ওয়েবসাইটে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, মেক্সিকো, চীন, ভারত, ব্রাজিল ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘও আন্তর্জাতিক উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয় করছে। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পোপ লিও চতুর্দশ প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি কারাকাস বিমানবন্দর সচল করতে লজিস্টিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন