হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে ফ্রান্সের সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগকে উস্কানিমূলক উল্লেখ করে প্যারিসকে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, কৌশলগত এই জলপথে মাইন নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার একমাত্র তাদেরই রয়েছে এবং এতে কোনো বিদেশি সম্পৃক্ততা গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালীতে মাইন নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব একচেটিয়াভাবে ইরানের। অন্য কোনো দেশের এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
গরিবাবাদী আরও বলেন, মাইন অপসারণের নামে কোনো সমান্তরাল উদ্যোগ বা বিদেশি সম্পৃক্ততা ইরান মেনে নেবে না। তার ভাষায়, ‘আমরা ফ্রান্সকে কঠোরভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন তারা এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে।’
ইরানের এ প্রতিক্রিয়া আসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক ঘোষণার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁ জানান, কৌশলগত এই সামুদ্রিক পথ নিরাপদ রাখা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ ও শর্তহীন নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও ওমান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে মাইনমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফ্রান্স সফরে থাকা ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে প্যারিসে বৈঠকের পর ম্যাক্রোঁ এ প্রস্তাবের কথা প্রকাশ করেন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে।
এদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যবস্থাপনা, মাইন নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম এবং অস্থায়ী সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা ইসলামাবাদ স্মারকলিপির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় পরিচালিত হয়। উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে এসব কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্ব ইরানের ওপরই বর্তায় বলে দাবি তেহরানের।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন