যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে বলেছেন, এমন কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এই জলপথে সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ভৌগোলিকভাবে ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি চলাচলকারী জাহাজে ইরান দুই দফা হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা বিমান হামলা চালায়। এতে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে (IRNA) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী চুক্তিকে 'ইরানি জনগণের জন্য একটি বড় বিজয়' বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কাতারে থাকা ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ তবে এই অর্থ কীভাবে বা কখন ছাড় করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সূত্র: আল জাজিরা
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন