ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে শোক আর আবেগের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়েন দেশটির সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনির স্মরণে কয়েক দিনব্যাপী এ শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইরানের প্রশাসনের ধারণা, পুরো কর্মসূচিতে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানান, বিপুল জনসমাগমের কথা বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে প্রার্থনা ময়দানের (মোসাল্লা) ফটক জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আগেই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
খামেনির মৃত্যুর পর এটিকে ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক শোকসমাবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই, এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, ইরাকের রাষ্ট্রপতি নিজার আহমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের কয়েকটি দেশকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন