ইরানের তেল রপ্তানির ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
ইরানের তেল রপ্তানির ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইরানের ৮০টি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাকে ওয়াশিংটন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। তার ভাষায়, এ ঘটনার জন্য ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া একটি ভঙ্গুর সমঝোতার অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ বিভাগ ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুমোদনের সময়সীমা কমিয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। যদিও এসব হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ দায়ও স্বীকার করেনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা এবং পাল্টা পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক বোঝাপড়াকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের মতে, নতুন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরান ও ওমানের মাঝামাঝি অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই যাতায়াত করত।

ইরানের অর্থনীতির জন্য তেল রপ্তানি অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। এই খাত থেকে অর্জিত অর্থ সরকারি ব্যয় নির্বাহ এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে চীনে তেল রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে তেহরান, যা বর্তমানে দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছে।

এএন