আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগে বুধবার তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছেছে। আগের দিনের তুলনায় এ দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবারও আন্তর্জাতিক বাজারে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত আবারও প্রমাণ করেছে যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং এই নৌপথে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অর্ধেকের নিচে নেমে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তখন অনেক বিনিয়োগকারী দাম আরও কমবে এমন প্রত্যাশায় তেলের বাজারে বড় পরিমাণে স্বল্পমেয়াদি অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে।

এদিকে জাহাজে হামলার দায় ইরান স্বীকার করেনি। তবে কাতার অভিযোগ করেছে, তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী একটি জাহাজে ড্রোন হামলাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া ওমান উপকূলে সৌদি পতাকাবাহী একটি সুপার ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র।

অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের পরিবর্তে ইরানের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর আগের মতোই এই নৌপথ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত গত সপ্তাহেও কমেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে এবং তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এম জি