পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কিশোরী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম কিশোরী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নিহত

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে মুসলিম কিশোরী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় দৃশ্য পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে এই ঘটনা ঘটে।

বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় তদন্ত ও দৃশ্য পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) করতে যায় পুলিশ। গাড়ি থেকে নামানোর সাথে সাথেই প্রভাস আকস্মিকভাবে এক পুলিশ কর্মকর্তার সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান এবং পালানোর চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে তাকে সতর্ক করে। তবে তিনি থামতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরপ্রদেশের আদলে ঘটা এই ‘এনকাউন্টার’ পুরো পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এর আগে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের আদালতে না পাঠিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যোগী আদিত্যনাথ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথেই সরকার চালানো হবে।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বারুইপুরের এই ঘটনায় সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন দেখা গেল। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তের এই ‘এনকাউন্টার’ সম্পন্ন হলো। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এর একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রভাস মণ্ডলকে সবার প্রথমে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে অন্য অভিযুক্তদের সন্ধান মেলে। পুলিশ জানায়, তদন্তের শুরু থেকেই প্রভাসের বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি ছিল। এমনকি ঘটনার দিন পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের কাজে নিজে অংশ নিয়ে তিনি পুলিশ ও গ্রামবাসীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রভাস স্বীকার করেন, মাত্র ১০ হাজার টাকার লোভে তিনি ওই কিশোরীকে অপহরণ করেছিলেন। যৌন নির্যাতনের পর তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিশুটিকে বস্তায় ভরে পানিতে ফেলা হয়েছিল এবং পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে এই মামলার চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান চারজনই আইনের আওতায় এলো, যাদের মধ্যে মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হলো।

এদিকে গত রবিবার সকালে ১১ বছর বয়সি ওই মুসলিম কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর বারুইপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইন অবরোধ করেন এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

পাশাপাশি, সরকারি কাজে বাধা ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এএন