ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ থেকে ইরানের মাশহাদের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারের কাছে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি।
মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইরাকে ছয় দিন ধরে চলা শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কফিন স্থানান্তরের এই কার্যক্রম চলছে। এর আগে নাজাফ, কারবালাসহ দুই দেশের বিভিন্ন শহরে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধর্মীয় আচার ও শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।
খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় খামেনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তাকে যেন মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারের কাছে সমাহিত করা হয়। তার সেই ইচ্ছা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মাশহাদেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে।
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় গত শুক্রবার থেকে। শুরুতে খামেনি, তার এক মেয়ে ও ১৪ মাস বয়সী নাতি, এক জামাতা এবং মোজতবার স্ত্রীর কফিন ইরানি কর্মকর্তা ও বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। পরে শনি ও রোববার বড় পরিসরে শোক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সোমবারের বিশাল শোকযাত্রার আগে ইরানে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। এরপর ইরাকেও খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে জড়ো হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। ওই ঘটনার পর ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালালে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়।
যুদ্ধে ইরান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির শাসন কাঠামো টিকে থাকে। পরে গত মাসে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরে ইরান নিজেদের বিজয় দাবি করে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন