নতুন করে উত্তপ্ত ভারতের মণিপুর, ছড়িয়েছে তীব্র সহিংসতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
নতুন করে উত্তপ্ত ভারতের মণিপুর, ছড়িয়েছে তীব্র সহিংসতা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার মেইতেই সম্প্রদায়ের বসতবাড়িতে কুকি উপজাতির সদস্যদের অগ্নিসংযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সালে জাতিগত বিরোধের সূত্র ধরে শুরু হওয়া সংঘাত এখনও পুরোপুরি থামেনি। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো রাজ্যটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে এই বিরোধ আরও গভীর হয়ে এখন দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে।

সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক স্থানীয় নারী অভিযোগ করে বলেন, কুকি সম্প্রদায়ের কিছু লোক তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সহায়তা না করে উল্টো কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।

এরই মধ্যে পশ্চিম ইম্ফলের লেলন ভাইফেই গ্রামের কাছে বছরের শুরুতে অপহৃত ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ১০ জুন ওই মরদেহগুলোর বাকি অংশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামবাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের ত্রিমুখী সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

এই সংকটের সূচনা হয় ২০২৩ সালে, যখন মেইতেই সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দাবি করে। এর বিরোধিতা করে কুকি সম্প্রদায়, যারা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে এ দাবি বাস্তবায়িত হলে তারা তাদের পৈতৃক জমির অধিকার হারাতে পারে। পরবর্তী সময়ে নাগা সম্প্রদায়ও এই বিরোধে সম্পৃক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জাতিগত সহিংসতায় গত এক বছরে প্রায় ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মণিপুরের সার্বিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এএন