বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদনটি করেন।

রিটকারী আইনজীবী জানান, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও প্রবীণসহ সাধারণ মানুষের ঘুমে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। জনস্বার্থের এই বিষয়টি বিবেচনা করেই রিট আবেদনটি করা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।

সংযুক্ত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে উন্মাদনার ঝড় বইছে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও দেশের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকেরা বাগ্‌যুদ্ধে জড়াচ্ছেন, যা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এবং বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন। এর বাইরে সবশেষ গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা ১১-তে পৌঁছায়।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানেই বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানেই ডিবির বিশেষ নজরদারি থাকবে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় আমাদের ঘাটতি আছে। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।

জেএইচআর