প্রকৃতির মেজাজ আজ কিছুটা উত্তপ্ত। বসন্তের শেষভাগে এসে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ গুমোট হতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার মধ্যে দেশের আটটি জেলার ওপর দিয়ে শক্তিশালী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এই ঝড়ের আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঝড়ের এই দাপট মূলত দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে যে আটটি অঞ্চলে আবহাওয়া দফতর কড়া নজরদারি রাখছে, সেগুলো হলো:
১. রংপুর ২. দিনাজপুর ৩. রাজশাহী ৪. পাবনা ৫. বগুড়া ৬. যশোর ৭. কুষ্টিয়া ৮. খুলনা
আবহাওয়া বার্তার তথ্যমতে, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা মেঘমালা এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে আনতে পারে। এই ঝড়ের সাথে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়ো হাওয়ার কারণে নদীবন্দরের পানি উত্তাল হয়ে উঠতে পারে, যা ছোট ছোট নৌযান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাঝিমাল্লাদের বলা হয়েছে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে এবং ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে। বিশেষ করে ফেরি ও ট্রলার চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু দমকা হাওয়া নয়, আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়ার এই অস্থির অবস্থা বিরাজ করতে পারে। আকাশে সঞ্চালনশীল মেঘের আধিক্যের কারণে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো কোনো এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দফতর। চলতি মৌসুমের এই সময়ে শিলাবৃষ্টি ফসলের বিশেষ করে বোরো ধান ও আম-লিচুর মুকুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 'কালবৈশাখী'র আনাগোনা বেড়ে যায়। আজকের এই ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস সেই আগাম বার্তারই অংশ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলা তপ্ত রোদ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়, যা সন্ধ্যার পর বা রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে রূপ নেয়।
আকাশ মেঘলা হলে বা মেঘের ডাক শোনা গেলে খোলা মাঠ বা বড় গাছের নিচে অবস্থান করবেন না। দ্রুত পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নিন। বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ। যেসব এলাকায় শিলাবৃষ্টির আভাস রয়েছে, সেখানে পরিপক্ক ফসল থাকলে দ্রুত সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন। ছোট নৌযান নিয়ে মাঝনদীতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অস্থিরতা কেবল আজ রাতের জন্য নয়; বরং সপ্তাহজুড়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধাপে ধাপে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার কারণেই বাংলাদেশে এই বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আজকের রাত ১টা পর্যন্ত বিশেষ সতর্কবার্তা থাকলেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতিই হতে পারে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান উপায়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন