৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

নিজের চিকিৎসা ব্যয়ে সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ ব্যয় প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুসরণ করেই পরিশোধ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদ বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করেছে।

রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ‘চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে মিডিয়া ফ্রেমিং ও আমার ব্যাখ্যা’ শীর্ষক এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তার চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাই পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের দেশ কিংবা বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে। তবে বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ড যদি লিখিতভাবে মত দেয় যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, তখন সরকারপ্রধানের অনুমোদনের ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে হাসপাতালের বিল, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে সরকার ব্যয় পরিশোধ করে।

নিজের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং প্রতিদিন তিনবার ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়। ২০১৫ সালে তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয় এবং এ পর্যন্ত পাঁচবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগজনিত জটিলতা দেখা দিলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড তাকে পরীক্ষা করে জানায়, তার ‘ক্যাথেটার অ্যাবলেশন’ নামের একটি জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি দেশে না থাকায় তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি অথবা থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে যান। সেখানে পুনরায় এনজিওগ্রাম করার পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলেও পরীক্ষায় তার হৃদপিণ্ডে জমাট রক্তের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এ কারণে আগে ওষুধের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সময়ে হজের সময় ঘনিয়ে আসায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ওই পর্যায় পর্যন্ত তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয় এবং সব খরচের বিল ও রশিদ যথাযথভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তীতে হজ পালন শেষে আবার অসুস্থতা বেড়ে গেলে দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি পুনরায় থাইল্যান্ডে গিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ত্রোপচার করান। এ সময় হাসপাতালের বিল বাবদ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রকৃত বিল আরও বেশি ছিল, তবে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কিছু ছাড় পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব নথি এবং বিলও নিয়ম অনুযায়ী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকার যে অর্থ পরিশোধ করেছে, তা শুধু হাসপাতালের বিল, অস্ত্রোপচার ও ওষুধের খরচের জন্যই ব্যয় হয়েছে বলেও জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তার সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর ব্যয়, হোটেলে থাকা, খাবার ও যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন। এসব ব্যয়ের কোনো অংশ সরকার বহন করেনি। তার ভাষ্য, সরকারি অর্থে পরিশোধ করা প্রতিটি টাকার বিল, ভাউচার ও রসিদ সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা সম্ভব।

পোস্টের শেষাংশে আ ফ ম খালিদ হোসেন দাবি করেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহার থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রেখেছেন এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছেন। তার অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক একটি বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে মানুষের মনে অযথা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনের নিন্দা জানিয়ে তিনি সবার জন্য সঠিক উপলব্ধি কামনা করেন।

এএন