মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় উদ্ভাবন, বিজ্ঞানচর্চা, উদ্যোক্তা তৈরির মানসিকতা এবং পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে আজ (২৯ জুন) দেশব্যাপী দুটি বড় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর অংশ হিসেবে একদিকে জাতীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে, অন্যদিকে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
মাউশি জানিয়েছে, ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’-এর আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করা।
এ আয়োজনে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক রয়েছেন। গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগর শিক্ষা থানায় অনুষ্ঠিত প্রাথমিক পর্বে ৮ হাজার ২৯টি দল অংশ নেয়। এতে মোট ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা ও স্টার্টআপ উপস্থাপন করে। ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরাও বিভিন্ন পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মাউশির কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষা, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, স্টার্টআপ উন্নয়ন এবং মেধার স্বীকৃতি দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল জাতীয় পর্যায়ে তাদের প্রকল্প উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচিত শিক্ষকরা ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং শিক্ষার্থীরা ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র পাবেন।
এদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে আজ দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, এক হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি ফলজ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, কর্মসূচিকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন